মনমালী যখন যাত্রী

কয়েকদিন আগের ঘটনা। ফেনী মহিপাল যাব,উঠেছি পদুয়ার বাজার বিশ্বরোড থেকে।ডাইরেক্ট গাড়ী। ভালো মোটামুটি।গাড়ী খানিকটা লেট করেই ছাড়লো।একটু পরই ড্রাইভার সাহেব স্পিড বাড়াতে থাকলেন এবং এমনভাবে গাড়ী চালাচ্ছিলেন যে মনে হচ্ছিল মৃত্যুর ফেরেস্তা তাকে পেছন থেকে তাড়া করছে ড্রাইভার তার থেকে বাঁচার জন্য দৌড়াচ্ছে।কোন গাড়ী ওভারটেক করতে কিংবা পাশ কাটাতে গাড়ী কোন প্রকার স্লোতো করছেইনা বরং মনে হচ্ছিল তখন যেন স্পিড আরো বেড়েই যাচ্ছিল,মনে হচ্ছিল যেন ফ্যানটাসি কিংডম এর কোন ভয়ংকর রাইডারে চড়ে সবাই প্রনভয়ে চিৎকার চেচামেচী করছে ,ড্রাইভার সাহেব যেন খুব মজা পাচ্ছিলেন,তিনি স্বাভাবিক।একজন বয়স্ক ভদ্রলোক ড্রাইভারকে বকা দিয়ে গাড়ী সাবধানে চালাতে বললেন।আরো অনেকেই একইভাবে বললেন। ড্রাইভার সাহেব লুকিংগ্লাসে প্রতিবাদী যাত্রীদের দেখলেন আড়চোখে।এবার যেন তিনি সিনেমার ভিলেন হয়ে গেলেন, গাড়ী যেন পন্খীরাজ হলো এবার,সার্কাস দেখাতে শুরু করলেন ড্রাইভার সাহেব যেন,উনি স্টিয়ারিং ছেড়ে দিয়ে একহাতে সিগারেট নিলেন এবার উভয় হাত ছেড়ে দিয়ে সিগারেটে অগ্নিসংযোগ করলেন,গাড়ীর গতিতে কিন্তু কমতি নাই,ভিলেনের মত ক্রুর হাসি হাসলেন আবারো বাঁকা চোখে তাকালেন প্রতিবাদী যাত্রীদের দিকে লুকিংগ্লাসের মাধ্যমে।পাশ থেকে একজন যাত্রী বলে উঠলেন কথা বলিয়েন না,বেশী রেগে গেলে ওরা যা ইচ্ছা তাই করতে পারে,চুপ হয়ে গেলেন প্রতিবাদী যাত্রীরা। মনমালীর চোখও পড়লো লুকিংগ্লাসে।ড্রাইভারের চেহারায় যেন রক্তের নেশা দেখতে পেল।ঘাবড়ে গেল মনমালী,অন্যান্য যাত্রীদের সাথে পড়তে থাকলেন যত রকমের মুসিবতের দোয়া। মনমালীর মনে মনে গাইতে শুরু করলেন---

ওকি ড্রাইভার ভাই--
তোমার নাই তুলনা নাই।
যেমনে ইচ্ছা চালাও গাড়ী
স্টিয়ারিং ধইরা কিংবা ছাড়ি
আস্তে কিংবা জোড়ে চালাও
ছিগারেট কিংবা আরকিছু খাও
আমার কোন আপত্তি নাই,
ওকি ড্রাইভার ভাই।
তোমার নাই তুলনা নাই।
.
যা ইচ্ছা তাই ভাড়া নিবা
ঘাড়ের উপর যাত্রী লইবা
মনে চাইলে লোকাল বানাও
কথা বললে নামাইয়া দাও
আমরা প্রানে বাঁচতে চাই,
ওকি ড্রাইভার ভাই।
তোমার নাই তুলনা নাই।
২৫.০৮.২০১৮

@templatesyard